শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

বন বিভাগের পাসের পরও সুন্দরবনে ঢুকতে লাগে ‘টোকেন’, জিম্মি কয়রা’র জেলেরা

 


মুস্তাফিজুর রহমান | কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি | খুলনার খবর

​সুন্দরবনে মাছ বা কাঁকড়া ধরার জন্য বন বিভাগ থেকে বৈধ পাস-পারমিট থাকা সত্ত্বেও মিলছে না বনে প্রবেশের নিশ্চয়তা। বর্তমানে সরকারি পাসের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে জলদস্যুদের ‘টোকেন বা টিকিট’। এই অবৈধ টিকিট বাণিজ্যের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে লোকালয়ের একশ্রেণীর ভদ্রবেশী গডফাদার। শার্ট-প্যান্ট পরা এসব দালালের কাছ থেকে টোকেন না নিলে বনজীবীদের বনে প্রবেশের কোনো উপায় নেই।

​খুলনার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন বিভাগের বৈধ অনুমতিপত্র থাকার পরও বনের নদী-খালে নির্বিঘ্নে টিকে থাকার জন্য ডাকাত সিন্ডিকেটকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হয় জেলেদের। প্রতি গোণে বা নির্দিষ্ট সময়ে নৌকা প্রতি এই টিকিটের মূল্য ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা। যে সব নৌকা এই টোকেন ছাড়া বনে প্রবেশের সাহস দেখায়, তাদের ভাগ্যে জোটে অমানুষিক নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা। পরবর্তীতে লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জীবন বাঁচাতে হয় তাদের।

​খুলনার খবর -এর অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বনের ভেতরের জলদস্যুরা মূলত মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে কাজ করে। আর আসল কলকাঠি নাড়ছে লোকালয়ের শার্ট-প্যান্ট পরা এই দালালচক্র। তারা মোবাইল ফোনে জলদস্যুদের কাছে জেলেদের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করে, বনের ভেতর রসদ জোগায় এবং বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ ও টিকিটের টাকা সংগ্রহ করে। এই চক্রের চক্করে পড়ে চড়া সুদে দাদন নিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন কয়রা অঞ্চলের হাজারো দরিদ্র বনজীবী।

​স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনকে প্রকৃত অর্থে দস্যুমুক্ত করতে হলে কেবল বনের ভেতর অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। বরং লোকালয়ে ঘুরে বেড়ানো এই শার্ট-প্যান্ট পরা ‘টোকেন’ বিক্রেতা ও ডাকাতদের গডফাদারদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

​সবশেষ খবর সবার আগে পেতে খুলনার খবর news -এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের www.korarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×