৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সেই তেজস্বী শিশু আজ নাইটগার্ড: ইতিহাসের নায়কের করুণ জীবনসংগ্রাম!
নিজস্ব প্রতিনিধি | কয়রার খবর (KK)
১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে হলেই চোখে ভেসে ওঠে রাজপথে খালি গায়ে, খালি পায়ে, হাত উঁচিয়ে মিছিলের অগ্রভাগে থাকা এক অকুতোভয় পথশিশুর ছবি। রাজপথের সেই উত্তাল দিনে যার কণ্ঠের গর্জন স্বৈরাচারী শাসকদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই শিশুটিই আজকের হোসেন আলী। তবে স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পার হলেও ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়া এই নায়কের জীবনের করুণ বাস্তবতা বদলে যায়নি।
কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯৬৯ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় গাড়ি মোছা আর কাগজ কুড়ানোর কাজ করতেন হোসেন আলী। তৎকালীন রাজপথে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি মিছিলে যোগ দেন। শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের মতো মহান নেতাদের মিছিলে একদম সামনে থেকে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, স্বৈরতন্ত্রের নিপাত চাই” স্লোগান দিয়ে শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব ও পলাশী হয়ে রাজপথ কাপিয়েছিলেন তিনি।
তবে ইতিহাসের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হলেও হোসেন আলীর জীবনে আসেনি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন। জীবনের শেষ ভাগে এসে আজ তিনি চরম অবহেলা ও অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মুগদা এলাকায় ২০০০ টাকা ভাড়ার এক জীর্ণ কক্ষে একা বসবাস করছেন। সংসার চালাতে প্রবীণ বয়সেও মতিঝিলের একটি ভবনে নাইটগার্ডের কাজ করতে হচ্ছে তাকে। মাস শেষে তাঁর বেতন দাঁড়ায় মাত্র ৮,৫০০ টাকা।
জীবনের আকুতি প্রকাশ করে তিনি কয়রার খবর কে বলেন, "দেশ স্বাধীন হইছে, এই দেশের বহুত মানুষ বহুত কিছু পাইছে। কিন্তু আমি কিছুই পাই নাই। আজ অসুস্থ হইয়া পইড়া থাকলেও কেউ জিগাইবার মতো নাই।"
সকল দুঃখ-কষ্ট আর অবহেলার পরেও দেশের স্বাধীনতাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও গৌরব বলে মনে করেন হোসেন আলী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা দেখেও তিনি আনন্দিত ও আবেগপ্লুত হয়েছেন। এতদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার তাঁর দায়িত্ব না নিলেও, জীবনের এই অন্তিম সময়ে এসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছে সুশীল সমাজ।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment