কয়রায় ১৬ কোটি টাকার মডেল মসজিদ নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম! ৪ ইঞ্চির বাঁধন দেওয়া হচ্ছে ৮ ইঞ্চিতে, তদন্তের আশ্বাস গণপূর্তের
খুলনার কয়রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশল নকশা (ডিজাইন) তোয়াক্কা না করে ভবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কলাম বা পিলার নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা চলছে।
কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভবনের কলামের শক্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মূল নকশায় প্রতি ৪ ইঞ্চি পরপর রডের স্টিরাপ (বাঁধন) দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রায় ৮ ইঞ্চি পরপর এই বাঁধন দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, নকশায় নির্ধারিত ১২ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও গোপনে ৮ মিলিমিটারের নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে নির্মাণস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কলাম তৈরির কাজ পুরোদমে চললেও তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা প্রকৌশলী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি না থাকায় ভবনের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি প্রকল্পের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ডেও প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদিত মোট মূল্য ১৬ কোটি ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৭ টাকা। যার চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৬ টাকা। তিন তলা ভিত্তির ওপর এই তিন তলা ভবনটি নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'সনেক্স ইন্টারন্যাশনাল' ও 'মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজ (জেভি)'।
তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর খুলনা-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক কাজের সময়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে কয়রার খবর-কে বলেন, "আমাদের ডিভিশনাল অফিস খুলনায় অবস্থিত। সেখান থেকে মাত্র দুই-চারটা কলাম ঢালাইয়ের জন্য বারবার কয়রায় আসা কষ্টসাধ্য। তবে ঢালাইয়ের আগে তারা আমাকে ফোনে ছবি পাঠিয়েছিল, সেটা দেখেই আমি কাজ শুরু করতে বলেছি। যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ থাকে, তবে আমরা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর খুলনা-২ এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান কয়রার খবর-কে জানান, মাঠ পর্যায়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা এই মুহূর্তে তার জানা নেই। তবে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার আব্দুর রহিম কয়রার খবর-এর কাছে নিজের দোষ আংশিক স্বীকার করে বলেন, "কোম্পানি থেকে আমাকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমি মাঠে সেভাবেই কাজ করাচ্ছি। তবে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে এমন ভুল আর হবে না।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোটি কোটি টাকার এই রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নকশা বহির্ভূত এই কাজের সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে অবিলম্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment