চাঁদখালীতে বেহাল সড়ক: ভাঙা ইটের সলিং ও কর্দমাক্ত কাঁচা রাস্তায় শত শত মানুষের চরম দুর্ভোগ
ইমন হোসাইন|পাইকগাছা প্রতিনিধি | কয়রার খবর
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটির ইটের সলিং ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি বড় অংশ কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে ওই এলাকার শত শত বাসিন্দা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চৌমুহনী বাজার মহিলা মাদ্রাসার সামনের অংশ থেকে গোলজার মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ইটের সলিং সড়কটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সড়কটির অধিকাংশ জায়গার সারিবদ্ধ ইটগুলো চাকার চাপে সম্পূর্ণ আলগা ও ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পিচ বা ইটের শক্ত কোনো বাঁধন না থাকায় সেখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ভাঙা ইটের ধারালো কোণা এবং গভীর গর্তের কারণে এই পথ দিয়ে সাধারণ পথচারী, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুধু ইটের সলিংয়ের ভাঙনই নয়, গোলজার মোল্লার বাড়ির পর থেকে প্রায় ১৬৪ মিটার সড়ক এখনো সম্পূর্ণ কাঁচা বা মাটির রয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এই কাঁচা অংশটি যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা নরম ও চটচটে কাদায় রূপ নেয়। কাদার গভীরতা এতটাই বেশি যে, তার ওপর দিয়ে ভ্যান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহন চালানো তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাদার ওপর চাকার দেবে যাওয়া গভীর দাগ যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও স্থবির করে দিয়েছে। এছাড়া এই রাস্তার সাথে সংযোগকারী পার্শ্ববর্তী ঘের বা জলাশয়ের ধারের মাটির উঁচু আইল সদৃশ রাস্তাগুলোও বর্ষায় পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা স্থানীয় কৃষক ও গবাদিপশুর নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বাধা।
এই চরম দুর্ভোগের বিষয়ে স্থানীয় এক ভ্যানচালক কয়রার খবর-কে বলেন, "রাস্তার যে অবস্থা, তাতে গাড়ি চালানো তো দূরের কথা, খালি গাড়ি ঠেলে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। ভাঙা ইটের খোঁচায় চাকা নষ্ট হয়, আর কাদার মধ্যে গাড়ি আটকে উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। জরুরি কোনো রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া এখন অসম্ভব।"
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে সড়কের এই বেহাল দশা চললেও এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত এই ক্ষতিগ্রস্ত ইটের সলিং অংশটি সংস্কার করা হোক এবং অবশিষ্টাংশ ১৬৪ মিটার কাঁচা রাস্তায় নতুন করে সলিং বা পাকা রাস্তা নির্মাণ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা হোক। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর গড়ের আবাদবাসীর।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
This theme has been developed by OURISLABD.



Post a Comment