রান্নার কড়াইতে গরুর মাংস গাঢ় সবুজ! পাইকগাছায় চাঞ্চল্য, নমুনা জব্দ করে পুলিশের তদন্ত
ইমন হোসাইন | পাইকগাছা প্রতিনিধি | কয়রার খবর
খুলনার পাইকগাছায় পিকনিকের রান্না বসানোর পর অলৌকিকভাবে গরুর মাংসের রং পরিবর্তন হয়ে গাঢ় সবুজ রূপ নেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি চাক্ষুষ করার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও কসাইদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পুলিশ সবুজ হয়ে যাওয়া মাংসের নমুনা আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছে এবং সঠিক কারণ নির্ণয়ে তা গবেষণাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পাইকগাছা পৌরসভার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা মিলে এক পিকনিকের আয়োজন করেন। পিকনিকের উদ্দেশ্যে তারা পাইকগাছা পৌর মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের দোকান থেকে ফ্রিজে রাখা ২ কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস কেনেন। তবে রান্নার প্রাথমিক ধাপে মাংস ধোয়ার সময় পানির বর্ণ কিছুটা কালচে রূপ ধারণ করে। পরবর্তীতে কড়াইতে মাংস দিয়ে জ্বাল দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবিশ্বাস্যভাবে মাংসের রং গাঢ় সবুজে রূপ নেয়। রান্নার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এমন দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে যান এবং তাৎক্ষণিক রান্না বন্ধ করে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী জনতার ভিড় জমে যায়।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে পাইকগাছা থানা-পুলিশ সেখান থেকে সবুজ মাংস উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ওই মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আগেও বাসি-পচা মাংস বিক্রি এবং ওজনে কম দেওয়ার নানা অভিযোগ রয়েছে। পাইকগাছার বাজারে এমন অসদুপায় রোধে প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বিক্রেতা ইসমাইল দাবি করেন, “আমার বিক্রিত মাংসে কোনো ভেজাল ছিল না। রান্নার দায়িত্বে থাকা লোকজনের সাথে কারো ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হয়তো মাংসে ক্ষতিকর কিছু মেশানো হয়েছে। তা না হলে স্বাভাবিক মাংসের রং এভাবে পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।”
বিষয়টি নিয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী কয়রার খবর-কে জানান, “ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। জব্দ করা মাংসের নমুনা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানোর কাজ চলছে। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট আসলেই মূলত জানা যাবে রং পরিবর্তনের প্রকৃত রহস্য। এতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা রাসায়নিক অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে পরীক্ষাগারের চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই ঘটনায় বিভ্রান্ত না হতে এবং ধৈর্য ধারণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment