কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নেটবাঁশের বেড়া: কয়রায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ, কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে চরম অসঙ্গতি
কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর
খুলনার কয়রা উপজেলার অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে লোহার গেটের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে নেটবাঁশের বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের এমন জরাজীর্ণ দশা দেখে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটকের নিচের অংশটি বাঁশ ও নেট দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এটিকে কোনো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ মনে হয় না, বরং কোনো নির্মাণাধীন ভবনের অস্থায়ী সীমানা প্রাচীরের মতো দেখায়। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরব হয়েছেন। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা জানান, একটি স্বনামধন্য কলেজের প্রবেশপথকে এভাবে আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে যেন "ছাগল-গরুর খোঁয়াড়" বানিয়ে রাখা হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই বেড়া অপসারণ করে একটি দৃষ্টিনন্দন ও স্থায়ী ফটক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
কলেজের এই অচলাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল বলেন, ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও একজন অযোগ্য ও অথর্ব ব্যক্তিকে এখানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজে একজন সাবেক অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের চোখের সামনে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠটি ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং কীভাবে এর একটি সুষ্ঠু সমাধান ও প্রতিকার করা যায়, তা খতিয়ে দেখছেন।
তবে কলেজের প্রধান ফটকে এই নেটবাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের মধ্যে চরম অসঙ্গতিপূর্ণ ও উল্টো বক্তব্য পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু বকর সিদ্দিক কয়রার খবর কে জানান, তাঁর সাথে কোনো প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এই বেড়া দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তীতে তাঁর নজরে আসলে তিনি দ্রুত এই নেটবাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কেন হয়নি—এমন প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, অ্যাডহক কমিটির সভাপতির এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওলিউল্লাহ। তিনি কয়রার খবর-কে বলেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু বকর সিদ্দিক এবং গভর্নিং বডির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার আলোকেই এই অস্থায়ী নেটবাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এ সময় সভাপতির দেওয়া ভিন্ন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি হেসে মন্তব্য করেন, "তাহলে তো দুজনের কথা দুই রকম হয়ে গেল।"
'কয়রার খবর'-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কলেজের নিজস্ব মালিকানাধীন ১২টি দোকান রয়েছে, যা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই অর্থ কলেজের বিভিন্ন ফি, লাইসেন্স নবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক দাপ্তরিক ব্যয়ে খরচ হয়ে থাকে। তবে প্রধান ফটকটি কেন সংস্কার করা হলো না, এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ জানান, পূর্বের মূল গেটটি মেরামত করতে মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো খরচের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিবর্গের মাঝে একমত বা সমঝোতা না হওয়ায় সেটি করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক সংস্কারের মতো সামান্য বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতির মধ্যকার এই প্রকাশ্য সমন্বয়হীনতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্থানীয়দের মনে আরও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কলেজের সামগ্রিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মানসম্মত প্রধান ফটক নির্মাণ এবং এই চরম অব্যবস্থাপনার পেছনে থাকা মূল কারণ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
This theme has been developed by OURISLABD.


Post a Comment