নিজস্ব প্রতিনিধি | কয়রার খবর (KK)
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিতর্ক ও জনগণের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে অবশেষে নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটলো বিদ্যুৎ বিভাগ। আগের দেওয়া বিতর্কিত হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য বাতিল করে গ্রাহকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে সোমবার রাতে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং প্রমাণ ছাড়া কোনো অপপ্রচার চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কড়া বার্তার পরপরই দেশের সাধারণ গ্রাহক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ তোলার অধিকারকে 'অপপ্রচার' আখ্যা দিয়ে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে একই রাতে পৌনে ১০টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশোধিত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারির অংশটি বাদ দিয়ে বলা হয়, কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করলে সে বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, মে ও জুন মাসের আকাশছোঁয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। পূর্বের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বিল আসার অভিযোগ জমা পড়ে। সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি, উচ্চতর স্ল্যাব এবং নতুন মূল্যহারকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ থামেনি।
কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হেল্পলাইন চালুর পরও গ্রাহকদের ভোগান্তি ও বিল সংক্রান্ত অসন্তোষ পুরোপুরি নিরসন হয়নি, যার ফলে ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎ বিভাগ শেষ পর্যন্ত তাদের বক্তব্য সংশোধন করতে বাধ্য হয়।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
