শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

কয়রায় ল্যাব সহকারীর আলাদিনের চেরাগ: ১২ হাজারি বেতনে ৯০ লাখ টাকার বিলাসবহুল বাড়ি!

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি | কয়রার খবর

মাত্র ১২ হাজার ৪০০ টাকা মাসিক বেতনের একজন স্কুল ল্যাব সহকারীর রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনা ঘিরে খুলনা ও কয়রা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী এলাকায় অবস্থিত বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের ল্যাব সহকারী আয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে হরিণ শিকার, মাংস পাচার, চাকরি ও সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ল্যাব সহকারী হিসেবে কর্মরত এই কর্মচারীর পরিবার ২০২২ সালেও জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরে বসবাস করত। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৩ সালের পর প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় আধুনিক দুইতলা টাইলস করা বাড়ি। অল্প সময়ে সামান্য বেতনের একজন কর্মচারীর এমন অর্থনৈতিক রূপান্তর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

'কয়রার খবর'-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আয়ুব আলী ও তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে অবৈধভাবে হরিণ শিকার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাংস পাচারকারী একটি চক্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে সম্পদের একটি বড় অংশ। বগুড়া সদরের বাসিন্দা জেলাল হোসেন 'কয়রার খবর'-কে জানান, হরিণের মাংস সরবরাহের চুক্তি করে আয়ুব আলী তাঁর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

শুধু বন্যপ্রাণী পাচারই নয়, এনজিওতে চাকরি ও সরকারি বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলেও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় হুমাইরা খাতুন নামে এক নারী কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, এনজিওতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় দুই বছর আগে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া 'আরাধ্য ফাউন্ডেশন' নামের একটি এনজিওতে চাকরি দেওয়ার নাম করে আরও অন্তত ৭০ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গভীর নলকূপ (টিউবওয়েল) ও পানির ট্যাংকি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও বেশ কিছু পরিবারের থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে তিনি এই পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো এবং প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে একাধিক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগও ওঠে। ২০২৩ সালে এক ছাত্রীর অভিভাবক শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা ধামাচাপা পড়ে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত পরিচালনা করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

১২ হাজার ৪০০ টাকার স্বল্প আয়ের আড়ালে এই বিপুল সম্পত্তির প্রকৃত উৎস কী, তা অনুসন্ধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অপরাধচক্রের সাথে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এখন কয়রাজুড়ে।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×