শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

কয়রায় খাবার পানির তীব্র হাহাকার: পলিথিনে বৃষ্টির পানি ধরে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে অসহায় পরিবার


 কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর

খুলনার কয়রা উপজেলায় লোনা পানির দাপটে খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার গোবরা খেয়াঘাট পার হয়ে ঘাটাকালী অভিমুখে নদীর একদম গা ঘেঁষে বসবাস করেন ৩৭ বছর বয়সী ফাহিমা বিবি ও তাঁর পরিবার। উপকূলীয় এই নদীভাঙন এলাকায় জোয়ারের সময় বাঁধ বা ওয়াপদার নিচ দিয়ে চুইয়ে লোনা পানি সোজা ঢুকে পড়ে স্থানীয় লোকালয় ও ডোবা-পুকুরে। ফলে চারপাশের সব জলাধারের পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লোনা পানির আগ্রাসনে ফাহিমা বিবির পরিবারে পানের উপযোগী পানি তো দূরের কথা, ঘরে থাকা বয়োবৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির অজুর মতো সামান্য পানির সংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানির কোনো বিকল্প উৎস বা টিউবওয়েল না থাকায় বাধ্য হয়ে বর্ষাকালে এক করুণ উপায়ে পানি ধরে রাখছেন তাঁরা। একটি প্লাস্টিকের ড্রামের মুখ কেটে তার ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মাঝখানে সামান্য ছিদ্র করে রাখা হয়েছে। আকাশ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির পানি পলিথিন দিয়ে ব্যারেলে জমা হলে তা দিয়েই অতি কষ্টে রান্নাবান্না ও পানের চাহিদা মেটাচ্ছেন পরিবারটি।

ভুক্তভোগী ফাহিমা বিবি কয়রার খবর-কে বলেন, "এলাকায় কোনো গভীর নলকূপ বা ভালো পানির উৎস নেই। সামান্য খাবার পানির জন্য প্রতিদিন যে সংগ্রাম করতে হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সরকারিভাবে যদি একটি সুপেয় পানির ট্যাংকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তবে অন্তত বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যদের পানির অভাব দূর হতো।"

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, কেবল ফাহিমা বিবির পরিবারই নয়, গোবরা নদী উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই সুপেয় পানির চরম সংকট বিরাজ করছে। অবিলম্বে এই অসহায় পরিবারসহ পুরো এলাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×