শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

জেলা প্রশাসন ও লিগ্যাল এইডের হস্তক্ষেপে ভুয়া বিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের ভুল স্বীকার কাজীর; মানবিক কারণে এক টাকাও না নিয়ে ক্ষমা করলেন ভুক্তভোগী


কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর

​কয়রা (খুলনা): জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং বেআইনিভাবে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটেছে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের aআইনি পদক্ষেপের নির্দেশ এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কাজী তাঁর প্রশাসনিক ও কৌশলগত ভুল নিঃশর্তভাবে স্বীকার করে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যুবক সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন বা দেনাপাওনা ছাড়াই কাজীকে দায়মুক্ত করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

​কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: আবু হানিফ মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে শারমিন আক্তার পলির বেআইনি পুনর্বিবাহ সম্পাদন ও ভুয়া তালাকনামা এন্ট্রির আয়োজন করে। বিয়ে ও তালাক রেজিস্টার (কাজী) মো: ইউনুস আলী প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্র সশরীরে যাচাই না করেই উক্ত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দেন। উক্ত ভুয়া তালাকনামায় ব্যবহৃত নোটারী পাবলিক ও সনাক্তকারী আইনজীবীর তথ্যেও মারাত্মক অনিয়ম পাওয়া যায়।

​পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানালে অভিযোগ ও তথ্য শাখা থেকে কড়া তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর ভিত্তিতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্তমূলক শুনানির আয়োজন করা হয়।

​লিগ্যাল এইড অফিসে শুনানিকালে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার সময় কাজী মো: ইউনুস আলী নিজেa তাঁর একমাত্র ছেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কাজী সাহেব খুলনাতে হাসপাতালে তাঁর অসুস্থ ছেলের সাথে অবস্থান করার সুযোগে, তাঁর অনুপস্থিতিতে এক সহকারী তথ্যের চরম গাফিলতি ও অনিয়ম করে এই অবৈধ বিবাহ ও বালাম এন্ট্রি সম্পাদন করেন। শুনানিতে কাজী সাহেব সশরীরে উপস্থিত হয়ে সহকারীর এমন ভুল ও নিজের প্রশাসনিক গাফিলতি নিঃশর্তভাবে স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে শতভাগ আইনি নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো: আবু হানিফ কয়রার খবর কে বলেন, "আমি কোনো মজলুম বা বিপদে পড়া মানুষের ওপর জুলুম করতে চাই না। কাজী সাহেব ইচ্ছাকৃতভাবে এই অন্যায় করেননি, বরং প্রতারক চক্র তাঁকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল এবং তিনি তখন হাসপাতালে তাঁর অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সে যদি স্বেচ্ছায় বা সজ্ঞানে এই অপরাধ করত, তবে তাকে কখনোই ক্ষমা করা হতো না। যেহেতু তিনি জেলা প্রশাসন ও লিগ্যাল এইডের আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই আমি কোনো দেনা-পাওনা বা এক টাকাও না নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"

​কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব ও দেনদরবার করা হলেও ভুক্তভোগী তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন এবং কেবল আইনি শর্ত সাপেক্ষে বিনামূল্যে বিষয়টির সুরাহা করেন।

​আপোষের ভবিষ্যৎ আইনি শর্তাবলী:

আইনি ও প্রশাসনিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাজী নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে আবদ্ধ হয়েছেন:

১. মূল NID যাচাই: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর, কনে ও সাক্ষীদের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সশরীরে পরীক্ষা ও নিশ্চিত করা।

২. আইনি অনুসন্ধান: নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলাম অনুযায়ী তালাকের ক্ষমতা ও আনুষঙ্গিক শর্তাবলী গভীরভাবে তদন্ত করা।

৩. ভুয়া কাগজপত্র বন্ধ: এফিডেভিটের নামে কোনো ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার বা বেআইনি বালাম এন্ট্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।

৪. নিয়মতান্ত্রিক নোটিশ: আইনানুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/মেয়র এবং অপর পক্ষকে নিয়মমাফিক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান নিশ্চিত করা।

৫. ইদ্দতকাল পালন: আইনসম্মত ৯০ (নব্বই) দিনের ইদ্দতকাল সম্পূর্ণ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তালাকনামা জারি না করা।

​সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×