শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

কয়রায় ২৭ বছরের দখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা, গাছগাছালি নষ্ট ও বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ


 কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর

কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রা উপজেলায় ২৭ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা দুই বিঘা জমি বেআইনিভাবে জবরদখলের চেষ্টা, সীমানা বেড়া ভাঙচুর এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি ও ধানক্ষেত বিনষ্ট করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। কয়রা বাজারের প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কয়রা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম ১৯৯৯ সালে কয়রা মৌজার এসএ ১২৫ নম্বর খতিয়ানের ১৬৭৪ নম্বর দাগে ০.৬৬ একর (দুই বিঘা) জমি ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর থেকে তিনি সরকারি রাজস্ব/খাজনা পরিশোধ এবং নিজ নামে নামজারি সম্পন্ন করে জমিটিতে সীমানা বেড়া দিয়ে ঘেরাও করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে ফসল ফলানোসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছগাছালি রোপণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম কয়রার খবর-কে জানান, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মদিনাবাদ গ্রামের মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল দুর্বৃত্ত অনাধিকার চর্চা করে তাঁর উক্ত জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাণ্ডব চালায় এবং জমিতে থাকা ফলদ গাছগাছালি উপড়ে ফেলে ও সীমানা বেড়া ভেঙে চুরমার করে দেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে জমিতে প্রবেশ ও ভাঙচুরে বাধা দিলে মোশারফ হোসেন ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি ও রক্তক্ষয়ী জখমের ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জমিটি নিয়ে কোনো আইনগত বিরোধ থাকলেও তা আদালত বা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার বলয় তৈরি করে সদলবলে জমি দখলের অপচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রেজাউল করিম প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর অর্জিত সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের জন্য কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম কয়রার খবর-কে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বা জমি দখলের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×