কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর
কয়রায় ঐতিহ্যবাহী কাচারি বাড়ি বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। তবে বৃক্ষমেলা নাম হলেও মেলায় গাছের চারার চেয়ে অন্যান্য সামগ্রীর দোকানের দাপট ও উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৃক্ষকে কেন্দ্র করে এই মেলার আয়োজন করা হলেও মেলায় গাছ বা চারার স্টল রয়েছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। অন্যদিকে মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে বসেছে কসমেটিকস, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাওয়ার দোকান, ভাজার দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ শত শত অন্যান্য স্টল। এছাড়া শিশুদের জন্য নাগরদোলা এবং পার্কে যেমন ভাসমান বোট থাকে, তেমনি পুকুরে বিভিন্ন দামে রাইডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, চারার স্টল সংখ্যায় কম হলেও মেলায় হরেক রকমের বিরল ও উন্নত জাতের দেশি-বিদেশি চারার সমারোহ ঘটেছে। মেলায় ১২ মাসের কাঁঠালের জাত (পিংক কাঁঠাল, গামলেস কাঁঠাল), ১২ মাসের জাম (কালো জাম, সাদা জাম), ১২ মাসি আতা, কদবেল, কামরাঙ্গা, আমড়া ও তেঁতুলের চারা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ১২ মাসের আমের কলমের মধ্যে থাই কাঠিমন, বারি এগারো, চায়না ড্রপ, বাবুল দোফলা ও ইন্ডিয়ান পোলাই-এর মতো নজরকাড়া জাত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি আমের সমাহারে ব্রুনাই কিং (৪/৫ কেজি), মিয়াজাকি/সূর্যডিম, ব্যানানা ম্যাংগো, চেংমাই, চাকা পতি, রেড পালমার, হাণিতু, থ্রি টেস্ট, সেভেন সেভেন, ব্ল্যাক স্টোন, কিউজাই, ডগমাই, কুমড়োতেলি, আলফ্রেডো, ফোর কেজি, ইন্ডিয়ান চৌসা, ইন্ডিয়ান ল্যাংড়া, ব্যারেকাফ, বারি ফোর ও অ্যাপেল ম্যাংগোর মতো দেশি-বিদেশি বৈচিত্র্যময় চারা মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারিগুলোর মালিকরা কয়রার খবর-কে জানান, "আমাদের স্টল সংখ্যায় কম হলেও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত ও বিরল প্রজাতির পর্যাপ্ত চারা মেলায় রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্, চারার বেচাকেনাও বেশ ভালো।"
এদিকে বৃক্ষের দোকানের চেয়ে অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়োজন বেশি জাকজমকপূর্ণ হলেও মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ সুসংহত। কয়রা থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশের অতন্দ্র প্রহরী টহল দিচ্ছে। দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটির সদস্যরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে মিলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
