শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

কাল থেকে কয়রায় কাছারীবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষমেলা শুরু

আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কাছারীবাড়ী প্রাঙ্গণে দশ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষমেলা। খুলনার ঐতিহ্যবাহী দৈনিক 'খুলনা গেজেট'-এ প্রকাশিত এক উপ-সম্পাদকীয় কলামে এই মেলার গৌরব ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখক ফরহাদ হুসাইন।

'কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে...'

বেদকাশী কাছারীবাড়ীর এই বৃক্ষমেলা দীর্ঘ ২৬ বছরের পথ পরিক্রমায় কেবল একটি মেলা নয়, এটি সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশ-সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে। ২০০১ সালে সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স,ম নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় স্থানীয় সব পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। দুর্যোগ-বিধ্বস্ত এই জনপদে বনায়ন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদ থেকেই মেলার ধারণাটি জন্ম নেয়, যা দ্রুতই পুরো খুলনা বিভাগের অন্যতম বৃহত্তম বৃক্ষমেলায় রূপ নেয়।

মেলায় স্থানীয় নার্সারি মালিকদের চারা বিক্রির সুযোগ, কৃষি ও পরিবেশ সংক্রান্ত সেমিনার, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও মেলা মঞ্চে স্থানীয় গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন এটিকে একটি সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।

"তিনি কয়রার খবর - কে বলেন..." অথবা "কয়রার খবর কে জানান..."

তবে উপ-সম্পাদকীয় কলামে মেলাকে ঘিরে অতীতের কিছু অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৮ সাল এবং বিশেষ করে ২০১৩ সালে মেলার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। স্টল বরাদ্দ থেকে শুরু করে টিকেট বিক্রি ও বিনোদন রাইড থেকে প্রাপ্ত আয়ের সঠিক হিসাব না রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আত্মসাতের খবরও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এলাকাবাসী এবং অভিভাবকরা মেলায় অশ্লীলতা, জুয়া ও মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা একটি পারিবারিক আয়োজনের পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মেলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, স্টল বরাদ্দের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, নিয়মিত অডিট এবং মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কড়া নজরদারি। উপ-সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে এই মেলা সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে ঐতিহাসিক এই মেলাকে প্রকৃত অর্থে পরিবেশ, অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন হিসেবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি | কয়রার খবর (KK)

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×