শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

অভিযোগের পাহাড় সত্ত্বেও শ্যামনগরে বহাল দুই পুলিশ সদস্য, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

 


শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি | কয়রার খবর

ঘুষ গ্রহণ, ক্ষেতের ফসল ধ্বংস, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কোনো অদৃশ্য ক্ষমতার বলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন বিতর্কিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। উপজেলার কাশিমাড়ী মৌজায় পৈতৃক ৩৪ শতক জমি নিয়ে (এস.এ দাগ নং ২৩২, খতিয়ান ৮২৯) মো. হাশেম আলীর দায়ের করা মামলার তদন্তে গিয়ে এএসআই ইমরান বাদীর ক্ষেতের উঠতি ধান নষ্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে এসআই আমির ও এএসআই ইমরান ৭ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এই ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

পরবর্তীতে আদালতের ১৪৫ ধারার নোটিশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাতে গেলে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা বাদীপক্ষের আত্মীয় ও কোর্টের আইনজীবী সহকারী (মোহরী) হাসনাত হাসুকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি কোনো পরোয়ানা ছাড়াই হাসুকে গ্রেপ্তারের হুমকি ও তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ে রাখার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই লাগাতার হুমকির মুখে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ওহাব কবিরাজসহ পুরো পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। হাসুর স্ত্রীর আসন্নপ্রসবা অবস্থাকে উপেক্ষা করেও ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কৈখালী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখা, নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা এই দুই কর্মকর্তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। থানার নাম ব্যবহার করে এএসআই ইমরান মূলত অবৈধ লেনদেনের 'ক্যাশিয়ার' হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি কৈখালীর স্থানীয় আজিজুল মেম্বারের যোগসাজশে সীমান্তে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ সহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়ে বাদীপক্ষের নামেই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসআই ইমরানের উপস্থিতিতে বাদীর বিরুদ্ধে মানববন্ধনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ভূমিকা ও প্রশাসনের নীরবতায় সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই আমিরুজ্জামান ও এএসআই ইমরান হোসেনকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। কয়রার খবর-কে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×